1. skarman0199094@gmail.com : Sk Arman : Sk Arman
  2. atikurrahman0.ar@gmail.com : MD : MD Atikurrahaman
  3. Mijankhan298@gmail.com : Mijankhan :
  4. mbbrimon@gmail.com : MBB Rimon : MBB Rimon
  5. rujina666666@gmail.com : Rujina Akter : Rujina Akter
  6. shamimulislamtanvirrana@gmail.com : MD Tanvir Islam : MD Tanvir Islam
  7. shafiulislamtanzil@gmail.com : Safiul Islam Tanzil : Safiul Islam Tanzil
 

যার মা কাজের বুয়া আর বাবা হলেন সিকিউরিটি গার্ড,সে এখন জজ

  • প্রকাশিত: ০৬:১৯ am | শনিবার ৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৩৬৬ বার পঠিত

বিজয়ের বাংলা:
১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ফলাফল। আর তাতে ৬৭তম হ’য়েছেন গোলাম রসুল সুইট।গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সহকারী জজ হিসেবে পিরোজপুর জেলায়

যোগদান করেন তিনি।অথচ কয়েকদিন আগেও সু’ইটের বাবা মোশারফ হোসেন রাজধানীর একটি বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ডের চা’করি করছিলেন। আর মা মাহফুজা খাতুন এলাকার অনেকের বাড়িতে করেছেন বুয়ার কাজ। ঠিকমতো খেতে না পারা সেই

গোলাম রসুল সুইট এখন জজ।সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পা’রুলিয়া ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামে সুইটের বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী সুইট। পরিবারের অভাবও দমাতে পারেনি তাকে।গোলাম রসুল সুইট

জাানন, শাখরা কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রা’থমিক শিক্ষা শেষ করে ভোমরা ইউনিয়ন দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেছি।এরপর দেবহাটা উপজেলার সখিপুর খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ্ কলেজ থেকে এইচএসসি

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আমাদের পরিবারে তখন খুব অভাব। বাবাও ছিলেন উদাসীন। কোনো র’কমে খেয়ে না খেয়ে দিন চলতো আমাদের।সুইট আরও বলেন, কলেজ শেষ করার পর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

এমন সময় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি প্র’তিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি।সেখান থেকে এক ভাই আমাকে পরামর্শ দেয় ঢাকায় গিয়ে কোচিং করার। কিন্তু পরি’বারের সেই অবস্থা ছিল না। মায়ের একটি গরু ছিল। সেই গরুটি

১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে ২০১০ সালের ১৭ মে ঢাকা যাই। এরপর একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হই।তি’নি বলেন, কিছুদিন পর মায়ের গরু বিক্রি করা সেই টাকাও ফুরিয়ে যায়। বাড়িতেও টাকা চাওয়া বা পরিবারে দেয়ার মতো কোনো অবস্থা ছিল না।

কান্নাকাটি করেছিলাম কোচিং পরিচালকের সামনে। এরপর তিনি আমাকে সেখানে বিনামূল্যে কোচিং এবং থাকার ব্যবস্থা করেন। এরই মধ্যে সঙ্গে থাকা সহপাঠীদের বন্ধু হয়ে যাই আমি।বন্ধুরাও আমার পারিবারিক অবস্থা জা’নার পর আমাকে বিভিন্নভাবে

সহযোগিতা করতে থাকে। বন্ধুদের সহযোগিতার কথাগুলো ভুলে যাওয়ার নয়। মা এবং বাবা মাঝে মধ্যে এক হাজার বা দুই হাজার করে টাকা দিত। গত এক মাস আগে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। মাকেও এক বছর আগে অন্যের বাড়িতে

কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি।
২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার গল্প জানিয়ে গোলাম রসুল সুইট বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তির

সুযোগ হয়।বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হই। ভর্তির পর টিউশুনির পো’স্টার ছাপিয়ে অভিভাবকদের কাছে বিতরণ শুরু করি। এভাবে পাঁচটি টিউশুনি জোগাড় হয়ে যায়। এভাবেই চলেছে আমার শিক্ষাজীবন।আত্মীয়-স্বজনরা কখনও

খোঁজ নেয়নি; তবে আমার বন্ধুরা আমার পাশে থেকেছে সব স’ময়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফলাফলে বি-ইউনিটে মেধাতালিকায় হয়েছি ১১তম। ১২তম বাংলাদেশ জু’ডিশিয়াল সার্ভিসে হয়েছি ৬৭তম। ১০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল।

এর মধ্যে নিয়োগ হয়েছে ৯৭ জনের। তিনজন পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন।সুইটের বাবা মোশারফ হোসেন জানান, রা’জধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে আট বছর সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেছি। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতাম। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করতো। এক মাস

আগে ছেলে চাকরিটা ছেড়ে দিতে বলেছে। তাই চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে এসেছি। ছেলে বলেছে, আ’মি এখন চাকরি পেয়েছি আপনার কাজ করতে হবে না। ভাবছি, এলাকায় ছোট একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করবো।অন্যের বাড়িতে কাজের বুয়া থাকাকালীন সময়ে সেসব কথা মনে করে

কেঁদে ওঠেন মা মাহফুজা খাতুন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ ক’রতাম। স্বামী আর আমার টাকা দিয়েই চলতো সংসার আর দুই ছেলের খরচ।আমরা যেটুকু পেরেছি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি ছেলের লেখাপড়া