1. atikurrahman0.ar@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  2. Mijankhan298@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  3. rabbimollik2002@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  4. msthoney406@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  5. abur9060@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
ব্রেকিং নিউজঃ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ - ২৪ ঘন্টাই খবর

ব্রেকিং নিউজঃ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’

  • আপডেট করা হয়েছে: সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২
  • ২১৯ বার পঠিত

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এটি উপকূলে পৌঁছায়। বর্তমানে সিত্রাং পায়রা বন্দর থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি মধ্যরাতে মূল আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ উপকূলের জেলাগুলো অতিক্রম শুরু করেছে। সিত্রাংয়ের যে পেরিফেরি ইফেক্ট আছে তা শুরু হয়ে গেছে। রাত ১১টার দিকে ঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করবে। এখন পানির উচ্চতা বাড়তে থাকবে।’

পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে সিত্রাং বাংলাদেশে আঘাত হানছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, ‘এটা (সিত্রাং) সন্ধ্যার পরেই আঘাত হানবে। ইতিমধ্যে ক্লাউড ছেড়ে দিয়েছে। সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম শুরু করবে। তবে ঝড়ের কেন্দ্রটি রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যে আসবে।’

তিনি জানান, সিত্রাং আঘাতের সময় গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। গতি কোনোভাবেই ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করবে না।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, জেলায় বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ দমকা হওয়া ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দমকা হওয়ার সঙ্গে খুলনায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৭ মিলিমিটার।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার জানান, খুলনার ৫৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ১৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগকালে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য ৫ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন আছেন।

ব‌রিশা‌লে সিত্রাংয়ের প্রভাবে সন্ধ‌্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ মি‌লি‌মিটার বৃ‌ষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের গ‌তিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ থে‌কে ৬০ কিলো‌মিটার। আবহাওয়া অফিস এসব তথ্য জানিয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলানুসন্ধান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মহসিন আলম সুপ্ত জানান, দ‌ক্ষিণাঞ্চ‌লের সব নদ-নদীর পা‌নি বিপৎসীমা অ‌তিক্রম করেছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি। বরিশাল নগরের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌ন থে‌কে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি‌টি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ব‌রিশা‌লের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো‌তে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় নি‌য়েছে।

সিত্রাংয়ের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে ২০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র, গঠন করা হয়েছে ৬৬টি মেডিক্যাল টিম। চরাঞ্চল থেকে মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝােড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর রয়েছে উত্তাল।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৭ নম্বর বিপদসংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৬ নম্বর বিপদসংকেতের আওতায় থাকবে।

সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীবন্দরে ৩ নম্বর নৌ বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে, সেই সঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৮ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন
© All rights reserved 2022
Site Developed By Bijoyerbangla.com