চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা বকেয়া বে’তনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে চান্দিনার‘ডেনিম’ নামের একটি পোশাক কারাখানার শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ৯টা থেকে মহা’সড়কের চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবরোধ করেছে তারা। দুপুর দেড়টায় এই রিপোর্ট
লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মহাসড়কের উভয় দিকে কমপক্ষে ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছে যাত্রী, গাড়ি চালক, বিদেশগামী, রোগী এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, চান্দিনার পশ্চিম বেলাশহরে অবস্থিত ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ পোশাক শ্রমিক কারাখানায় প্রায় তিন মাস যাবৎ শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরি’শোধ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বেতন ভাতা না পেয়ে কমপক্ষে তিন হাজার ক্ষুব্ধ শ্রমিক এবং ক’র্মচারীরা বুধবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের
চান্দিনার বেলাশহর মিলগেইট এলাকায় অবরোধ করে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা চেষ্টা করেও অবরোধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে শ্রমি’কদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আ’শরাফুন নাহার। অবরোধ শুরুর পর থেকে মালিকপক্ষের লোকজন মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখায় যোগাযোগ
করাও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জেলা ম্যা’জিস্ট্রেট আরেফিন রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ’ফজাল হোসেন, চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুন নাহার,
সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জুয়েল রানা, চান্দিনা থানার অ’ফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, দেবীদ্বার থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানসহ প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা করছেন। শ্রমিক নূর’জাহান জানান, প্রতি মাসের ১০ তারিখে আমাদের বেতন ভাতা পরিশোধ
করার কথা। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত কাজ করে পোশাক তৈরি অব্যাহত রাখলেও গত এক বছর যাবৎ আমাদের বেতন অ’নিয়মিত। গত তিন মাস যাবৎ আমাদের বেতনের একটি টাকাও পরিশোধ করছে না। এমন অবস্থায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। অপর
শ্রমিক মোহাম্মদ হোসেন জানান, বেতনের জন্য আমরা প্রতিবাদ করলেই মালিক পক্ষ আমাদের চিহ্নিত করে ছাঁ’টাই করে দেয়। তাদের (মালিক পক্ষে) সব কিছু ঠিক আছে, শুধু আমাদের বেতন দিতেই স’মস্যা। আমাদের দিয়ে ওভারটা করায় কিন্তু সেই ওভারটাইমের টাকাও পাই না। মাস শেষে আমাদের বেতন নাই! এদিকে,
ওই গার্মেন্টেস এর একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, মূলত মালিকের কয়েকটি ব্যাংক অ্যা’কাউন্ট নাকি সরকার বন্ধ করে রাখছে। তাই মালিকপক্ষ শ্র’মিকদের বেতন না দিয়ে শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তুলে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। এদিকে, দীর্ঘ যানজটে পড়ে আটকতে থাকা গাড়ি চালক মিজানুর রহমান জানান, কোনো কিছু হলেই মহাসড়ক
অবরোধ! এটা কেমন কথা। একটি কারখানার কারণে কত হাজার হাজার যানবাহান রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে। তা কি কেউ দেখে না? আমি সকাল সোয়া ৯টায় বেলাশহর এলাকায় আটকা পড়েছি, এখন প্রায় পৌঁণে ১টা বাজে এখনো এক চুল নড়তে পারছি না। কুমিল্লার চান্দিনা এবং দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জুয়েল রানা জানান, বেতন
ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্যাপী দীর্ঘ অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে মহাসড়ক। তবে শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনো নেতা না থাকায় ও মালিক পক্ষের গাফিলতিতে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নি’য়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই ব্যাপারে জানতে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ গার্মেন্টের পরিচালক আলমগীর হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।সূত্র-নয়াদিগন্ত।