1. atikurrahman0.ar@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  2. Mijankhan298@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  3. rabbimollik2002@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  4. msthoney406@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  5. abur9060@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
ফাঁস হয়ে গেল যাদের পাতা ফাঁদে পা দেন সাকিবরা - ২৪ ঘন্টাই খবর

ফাঁস হয়ে গেল যাদের পাতা ফাঁদে পা দেন সাকিবরা

  • আপডেট করা হয়েছে: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
  • ১০২ বার পঠিত

সাকিব আল হাসান চুক্তি বাতিল করার পরই থেমেছে মাতামাতি। বেটউইনার বিতর্কে পড়েছে দাঁড়ি। সাকিবকে ঘিরে উত্তেজনার যে পারদ চড়েছিল, তা আপাতত ছাইচাপা। টি২০ বিশ্বকাপ

পর্যন্ত অধিনায়ক করা হয়েছে বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারকে। এশিয়া কাপেও তাঁর নেতৃত্বে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দলে জায়গা করে নিয়েছেন কারা- সেটাও সবার জানা।

তবে সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাকিবকে বিতর্কিত চুক্তিতে জড়ানো ভারতীয় এজেন্ট সেকেন্ড ইনিংস স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের (সিআইএসই) সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে

বিরক্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কলকাতাভিত্তিক এ ধরনের এজেন্টের ব্যাপারে ক্রিকেটারদের সতর্ক করে দেশের বা খেলার ইমেজ নষ্ট করে- এমন প্রতিষ্ঠান, খেলার সামগ্রী বা

পণ্যদূত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে বিসিবি। বেটউইনার নিউজের মতো বিতর্কিত বেটিং সাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে চার ক্রিকেটারকে প্রভাবিত করায় ভারতীয় এজেন্ট

সিআইএসইকে বিসিবি কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে। যদিও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিতর্কিত চুক্তিতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন সিআইএসইর স্বত্বাধিকারী রুদ্রদীপ ব্যানার্জি।

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও তাসকিন আহমেদকে বেটউইনার নিউজের পণ্যদূত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল সিআইএসই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাসকিন প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। মুশফিকও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। তামিম সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে লোভনীয়

প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিলেও সাকিব জড়িয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে বিসিবির অফিসিয়াল বক্তব্য ছিল, সাকিবকে ভুল বোঝানো হয়েছে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘সাকিব বলেছে, তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, বেটউইনার একটি নিউজ পোর্টাল। যে কারণে

সে চুক্তি করেছিল।’ কে ভুল বুঝিয়েছে, সে ব্যাপারে বিসিবিকে অফিসিয়ালি কিছু বলেননি সাকিব। সমকাল খোঁজ নিয়ে জেনেছে, সিআইএসইর স্বত্বাধিকারী রুদ্রদীপ ব্যানার্জি ও তাঁর ছোট ভাই কুমারদীপ ব্যানার্জির মাধ্যমে বিতর্কিত প্রস্তাবটি পেয়েছিলেন চার ক্রিকেটার। বিসিবি কর্মকর্তারাও আনঅফিসিয়ালি তাঁদের

জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে বিসিবির সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক। যে এজেন্ট বেটউইনার নিউজের মতো বিতর্কিত ইস্যুতে খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে, তার ব্যাপারে আমি ‘সিরিয়াস’। ওই ব্যক্তি ক্রিকেট, বিসিবি এবং খেলোয়াড়ের ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তারা শুধু আমার একটা খেলোয়াড়কে জড়ায়নি, বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।”

লিটন কুমার দাস, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, আফিফ হোসেন, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আবু হায়দার রনির মতো ক্রিকেটারের এজেন্ট ভারতের রুদ্রদীপ। বিসিবির সঙ্গেও সরাসরি ব্যবসা করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং কোচ ওয়াসিম জাফর ও জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমটকেও বিসিবির সংযোগ ঘটিয়েছেন রুদ্রদীপ। বিসিবি ভবিষ্যতে সিআইএসইর সঙ্গে কাজ করবে কিনা- জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ গাইডলাইন আছে। আমরা আমাদের পলিসি

অনুযায়ী এগোব। আসলে তারা এমনভাবে বিশ্বক্রিকেটের সঙ্গে লেগে আছে, একজন কোচ নিলে তারা ঢুকে পড়ছে। একজন খেলোয়াড় নিতে গেলে তারা ঢুকে পড়ে। সবাই এ রকম বিতর্কিত কাজে যুক্ত, তা নয়। ২৫ শতাংশ এজেন্ট এ ধরনের কাজ করে। তারা গেমটাকে ক্ষতি করে। যারা পেশাদার, তারা জানে কী করা যাবে,

কী করা যাবে না। সাকিব জিনিসটা বুঝুক বা না-ই বুঝুক, তাকে তো একটা ঝামেলার মধ্যে ফেলেছে। এজেন্ট জানে, বিষয়টি ঝামেলার। তবু কেন সাকিবকে সেখানে ঠেলে দিল? তার কারণে আমরা সবাই একটা ঝামেলার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। এই এজেন্টের ব্যাপারে আমি সতর্ক।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট সামগ্রীর বেশিরভাগ আসে ভারত থেকে। দেশটিতে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ব্র্যান্ড কোম্পানি (ব্যাট-প্যাড-শু) আফিফদের কিট স্পন্সর। রুদ্রদীপের মাধ্যমেই এ স্পন্সর পেয়ে থাকেন ঢাকার ক্রিকেটাররা। ভারতে গিয়ে পছন্দমতো ব্যাট বানিয়েও আনতে পারেন সৌম্যরা। সিআইএসই কিট

স্পন্সরের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি মুনাফার লোভে বিতর্কিত বিজ্ঞাপনেও জড়াচ্ছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। এ ক্ষেত্রে বিসিবির করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘রুদ্রদীপ যে বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিবকে চুক্তি করিয়েছে, এর অফিসিয়ালি কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা আনঅফিসিয়ালি জেনেছি,

সে জড়িত। রুদ্রদীপ তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা খেলোয়াড়দের সব সময় সতর্ক করেছি, যে এজেন্ট বা কোম্পানি ক্রিকেটীয় বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকে কাজ করতে। বিসিবির দিক থেকে খেলোয়াড়দের সতর্ক করা

আছে, বিতর্কিত বা ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করতে। কোনো এজেন্ট ভুল পথে নিচ্ছে কিনা, সেটা খেলোয়াড় ভালো বুঝবে। কোনো চুক্তি করার আগে যাচাই-বাছাই করে করা উচিত। এদিক থেকে দায়ভারটা এজেন্ট বা বিসিবির চেয়ে খেলোয়াড়ের বেশি।’

কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় বেশ কয়েকটি এজেন্ট বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে। বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটার সরবরাহ করেন রুদ্রদীপ ও কাস্তব লাহিড়ী। বিপিএলের প্রথম আসর থেকে বিসিবির সঙ্গে জড়িত

কাস্তব লাহিড়ী। জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরও দক্ষিণ এশিয়ান এজেন্ট তিনি। সেদিক থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভারতীয় এজেন্টদের বড় বাণিজ্য ক্ষেত্র হলেও নৈতিকভাবে তেমন স্বচ্ছ নয় বলে অভিযোগ আছে।

টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ তাই ক্রিকেটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কোনো এজেন্ট যখন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তাকে বিশ্বাস করে। দুই পক্ষের মধ্যেই পারস্পরিক সম্মান থাকতে হবে। এজেন্টকে বুঝতে হবে, খেলোয়াড়ের জন্য কোনটা ভালো-খারাপ। বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিবকে জড়ানো

উচিত হয়নি। শুনেছি, আরও ক্রিকেটারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেটা এজেন্ট হিসেবে একেবারেই অনুচিত। কারণ, সে বিতর্কিত ইস্যুতে জড়িয়ে খেলোয়াড়ের ইমেজের ক্ষতি করেছে। আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের উচিত বিশ্বস্ত এবং ভালো এজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করা। এজেন্টের নাম বিসিবিতে দেওয়া। সে ক্ষেত্রে বিসিবি বিষয়টি অফিসিয়ালি দেখতে পারবে।’

বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিব চুক্তিতে জড়িত ছিলেন না বলে জানান রুদ্রদীপ। তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশি অন্য কোনো ক্রিকেটারকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। রুদ্রদীপ বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের পণ্যের এনডোর্সমেন্ট করাই না। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে

খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করা, ফুটওয়্যার ও কিট স্পন্সর নিয়ে কাজ করি। বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি আমার মাধ্যমে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা অযৌক্তিক। বিসিবির সঙ্গে আমি কাজ করি। সেখান থেকে এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলা হয়নি।’

তবে সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাকিবের সঙ্গে বেটউইনারের চুক্তি হয়েছিল ৮ কোটি টাকায়। চুক্তি টিকে গেলে রুদ্রদীপ পেতেন ৮০ লাখ টাকা। সিআইএসই থেকে তামিমকে ৫ লাখ, মুশফিক ও তাসকিনকে আড়াই লাখ ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন
© All rights reserved 2022
Site Developed By Bijoyerbangla.com