1. atikurrahman0.ar@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  2. Mijankhan298@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  3. rabbimollik2002@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  4. msthoney406@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  5. abur9060@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
প্রশাসনে আসছে বড় পদোন্নতি, তদবিরের হিড়িক - ২৪ ঘন্টাই খবর

প্রশাসনে আসছে বড় পদোন্নতি, তদবিরের হিড়িক

  • আপডেট করা হয়েছে: শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৩৩ বার পঠিত

প্রশাসনে উপসচিব পযমর্যাদার কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই। গত বৃহস্পতিবার সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সর্বশেষ বৈঠক

অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐ বৈঠক শেষে পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে

তদবির করছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। যদিও ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রভাব খাটাতে পারেন না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার পদোন্নতির জন্য ২১তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকরা গত ৯ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। এবার প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডার থেকে

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্বেও আগে পদোন্নতি বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৯ জুন রাতে ৮৪ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। ফলে বর্তমানে ৩৩০টি অনুমোদিত যুগ্ম সচিব পদের বিপরীতে ৭১৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তারপরও বিসিএস ২১তম ব্যাচের ১৮১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫৩ জন

পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ছাড়া সদ্য বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের নয়জন কর্মকর্তাও পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিবঞ্চিত (লেফট আউট) একশ’র মতো কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ক্যাডারের দেড়শ’ কর্মকর্তাকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠক করে এসএসবি। বৈঠকে প্রত্যেকের কর্মজীবনের সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনায় এসেছে।

পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী তারা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। অন্য দিকে যেসব কর্মকর্তা মেধাবী কিন্তু

রাজনৈতিক প্রভাব শক্তিশালী না, তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী এসএসবির সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের দিয়ে তদবির করাচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) হিসেবে কর্মরত আছেন প্রশাসন ক্যাডারের ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা বাবর আলী মীর। তার পদোন্নতি নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে আধা সরকারিপত্র দিয়ে

অনুরোধ করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। পত্রে তিনি বলেছেন, এ কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব পদে পদায়ন করা হলে তার কর্মস্পৃতা বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষতার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে অবদান রাখতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা ও সুরক্ষা বিভাগের অধীন ১১টি মর্ডান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেন। যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য তার পক্ষে ডিও দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

ডিও লেটারে তিনি লিখেছেন, আতাহার হোসেন একজন দক্ষ, সৎ, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড

আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তার পরিবার স্বাধীনতা স্বপক্ষের সকল কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলে তার যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে মন্ত্রী দৃড়ভাবে বিশ্বাস করেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে কর্মরত আছেন কাজী মোখলেছুর রহমান। তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মা রত্নগর্ভা পুরষ্কারপ্রাপ্ত। পদোন্নতির জন্যও সুপারিশ করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নিকট আধাসরকারী পত্র দিয়েছেন নওগা-৫

আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন। আধাসরকারি পত্রে তিনি লিখেছেন, কাজী মোখলেছুর রহমান ইতমধ্যে সততা ও দেশপ্রেমের মাপকাঠিতে ইতমধ্যে নিজেকে সরকারের বিশ্বাস্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। গত ২৯

জুন প্রকাশিত যুগ্মসচিব পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে তার নাম না থাকায় আমি ব্যথিত হয়েছি। পারিবারিকভাবে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক বাহক। তিনি পদোন্নতি পেলে রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।

যদিও ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রভাব খাটাতে পারেন না।‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি

কর্মচারী তাহার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহিঃপ্রভাব খাটাইতে বা খাটাইবার চেষ্টা করিতে পারিবেন না।’

একই আইনে তদবির করার জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আইনটির ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো ব্যাপারে তাহার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরোধ জানাইতে পারিবেন না।’

১৯৫৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক স্মারকেও কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের কাছে তদবির করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. মুসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে কোনো মন্ত্রী বা এমপি তদবির করতে পারেন না। সরকারি বিধিতে তদবির নিষিদ্ধ। যার তদবির করছেন তারা আইন লঙ্ঘন করছেন। যদি তারা এমনটি করতেই থাকেন তাহলে আইন থাকার প্রয়োজন কোথায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন
© All rights reserved 2022
Site Developed By Bijoyerbangla.com