1. skarman0199094@gmail.com : Sk Arman : Sk Arman
  2. atikurrahman0.ar@gmail.com : MD : MD Atikurrahaman
  3. alamran777777@gmail.com : Md. Imran : Md. Imran
  4. Mijankhan298@gmail.com : Md Mijankhan : Md Mijankhan
  5. mbbrimon@gmail.com : MBB Rimon : MBB Rimon
  6. rujina666666@gmail.com : Rujina Akter : Rujina Akter
  7. shamimulislamtanvirrana@gmail.com : MD Tanvir Islam : MD Tanvir Islam
  8. shafiulislamtanzil@gmail.com : Safiul Islam Tanzil : Safiul Islam Tanzil
 
সর্বশেষঃ
সারাদেশে শাটডাউনের প্রস্তুতি: আগের চেয়ে বিধিনিষেধ আরও কঠোর হবে’ যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত: লকডাউন নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সবপ্রকার অনলাইন গেম ব’ন্ধ হচ্ছে !! কৃষ্ণসাগরে আবার কোনো উসকানি দিলে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিশ্চিত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: রাশিয়া মা অন্যের বাড়িতে কাজ করছিলেন, হঠাৎ খবর এলো পাটক্ষেতে তরুণীর মেয়ের লা’শ হিন্দু সুশান্ত ইসলাম গ্রহণ করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন! বিয়ের কিছুদিন পর জানলেন প্রেমিকার গ’র্ভের ছেলেটি তার কাকা! ম্যানেজার একে একে সব বোনের স্বামী হলেন! চীনে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী কুকুরের মাংস খাওয়ার উৎস কলেজ পড়ুয়া মিমের সারা শরীরে নখের আঁচড়, লা’শের মুখে কামড়ের দাগ

পবিত্র ঈদুল ফিতর : ইসলাম কি বলে

  • প্রকাশিত: ০২:৪১ pm | রবিবার ৯ মে, ২০২১
  • ১৫১ বার পঠিত

বিজয়ের বাংলা: পবিত্র রমযান মাস লাভ করা এবং রোযার তাওফীকপ্রাপ্ত হওয়ার উপর আনন্দ প্রকাশ করা। আর এই মহা নেয়ামতের উপর আল্লাহ তাআলার শোকরগোযারী ও তার বড়ত্ব-মহত্ব বয়ান করাই হল এই আনন্দের মূল। আনন্দ প্রকাশের পদ্ধতি ইসলামী শরীয়াহ্ এই নির্ধারণ করেছে যে, গোসল করে পাক-পবিত্র হয়ে যাও। বেজোড় সংখ্যক খেজুর খাও কিংবা কোনো মিষ্টিদ্রব্য খাও। সদাকায়ে ফিতর আদায় কর। নিজের কাছে বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে সর্বোত্তম এবং পবিত্র কাপড় পরিধান কর । এরপর তাকবীর পাঠ করতে করতে ঈদগাহের দিকে যাও। ইমামের পিছনে নামায আদায় কর এবং মনযোগী হয়ে খুতবা শ্রবণ কর। ফেরার সময় সম্ভব হলে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ফিরে আস। আসা-যাওয়ার সময় এবং ঈদগাহে যাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয় তাদেরকে সালাম কর। কারো সঙ্গে নতুন সাক্ষাত হলে মুসাফাহার আমলও কর। একে অন্যকে কবুলিয়াতের দুআ দাও। এই সময় সাহাবায়ে কেরাম এই দুআ করতেন: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম” -ফাতহুল বারী ২/৫১৭ ‘ঈদমোবারক’ বলে শুভকামনা জানানো যদিও মুবাহ, কিন্তু তা একটি রসমের মতো হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, সালামের পরিবর্তে এই শব্দটাই ব্যবহার করা হয় । মোটকথা, এ সময়ের মাসনূন দুআ ওইটাই যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হল ঈদুল ফিতরের দিন ঈদ উদযাপন করে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায়ের পদ্ধতি। এর বাইরে যে সব প্রচলিত বিষয় রয়েছে, যদি সেগুলোতে কোনো না-জায়েয বিষয় ও অশ্লীলতা না থাকে, তবে তা মোবাহ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। ওগুলো ঈদের মাসনূন আমল নয়। ওগুলোকে যদি মাসনূন মনে না করা হয় এবং এত গুরুত্ব না দেওয়া হয় যে, পরিত্যাগ করা দোষণীয়, তবে তাতে অসুবিধা নেই। অন্যথায় ওগুলো পরিত্যাজ্য বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর যেসব নাজায়েয ও অশ্লীল কার্যকলাপ সমাজে প্রচলিত রয়েছে সেগুলো সর্বাবস্থাতেই নাজায়েয, ঈদের বরকতময় দিবসে সেগুলোতে লিপ্ত হওয়া আরো মারাত্মক না-জায়েয বলে গণ্য হবে। ‘ঈদকে‘ অভিশাপে পরিণত না করা: আরবী ভাষায় ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ আর ‘ওয়ীদ’ অর্থ অভিশাপ। আল্লাহর করুণা অভিশাপে পরিণত হয় নেয়ামতের বে কদরী করার দ্বারা কিংবা নেয়ামতের অপব্যবহার করার দ্বারা।

ঈদ আল্লাহ তাআলার মহা-নেয়ামত। প্রত্যেক জাতির ঈদ তথা উৎসব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে দু’টো ঈদ ( ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) উপহার দিয়েছেন। বাহ্যত অনেকের মনে হতে পারে যে, এটাও অন্যান্য জাতির পর্ব-উৎসবের মতোই একটি উৎসবমাত্র, কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ইসলামী ঈদ অন্যান্য জাতির পর্ব-উৎসব থেকে সব দিক থেকে স্বাতন্ত্রের অধিকারী। স্বরূপ ও তাৎপর্য এবং বিধান ও উদযাপন-পদ্ধতি সব দিক থেকে এতে ভিন্নতা রয়েছে। যদি ইসলামী ঈদকে শুধু একটি বার্ষিক উৎসব গণ্য করা হয় এবং অন্যান্য জাতির মতো ঈদের সঙ্গেও মনগড়া কার্যকলাপ যুক্ত করা হয় তবে নিঃসন্দেহে ঈদ ‘ওয়ীদ’-এ (অভিশাপে) রূপান্তরিত হবে। আমাদের সমাজে এখন ঈদ উপলক্ষে যে পন্থা-পদ্ধতি প্রচলিত তাতে ঈদ ‘ওয়ীদ’-এ (অভিশাপে) পরিণত হওয়ার মতো অনেক বিষয় বিদ্যমান। যেমন: ১. ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য এই যে, রমযানের মতো মাস লাভ করা এবং রোযার মতো ইবাদতের তাওফীকপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় এবং তাঁর বড়ত্ব ও হক আদায় করা। কিন্তু এই ‘মুসলিম সমাজে’ হাজারো আল্লাহর বান্দা/বান্দী এমন পাওয়া যাবে যাদের না আছে রোযার গুরুত্ব, না আছে নামাযের গুরুত্ব, কিন্তু ঈদের ‘শোভাযাত্রায়’ তারা সবার আগে। যদি ঈদের দিনই তাদের খালেস দিলে তওবা করে আহকামে শরীয়তের পাবন্দীর দিকে ফিরে আসা হয় তবে তো অতি উত্তম, অন্যথায় এদের স্বভাব-চরিত্রই এই যে, আকাইদ ও আ’মাল এবং ফরয-ওয়াজিবের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই,তারা নিজেদের মুসলমানিত্বের প্রমাণ শুধু এমন হাতেগোনা কিছু দিবসে প্রদান করতে আগ্রহী যেগুলোতে কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। আর সেগুলোর সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে । বলাবাহুল্য যে, এই মানসিকতা- সে দ্বীনী জ্ঞানশূন্যতার কারণে হোক বা বুদ্ধিবৃত্তিক (?) কারণে- অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা ইসলমের অত্যন্ত ভুল রূপায়ন। কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ধরনের মানসিকতা আল্লাহ তাআলার অভিশাপকে ত্বরান্বিত করে। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই আমাদের হেদায়েতের মালিক। তাঁর নিকটেই হেদায়েত ও হেফাযত প্রার্থনা করি। ২. রমযানের মর্যাদা ও পবিত্রতা বিনষ্ট করার মধ্যেও যাদের কোনো সংকোচ বোধ হয় না তাদেরকে ঈদগাহে উপস্থিত দেখা যায়।

রমযান মাসে না সিনেমাহলগুলোর উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ, না ভিসিআর, ডিশ, পত্র-পত্রিকার অশ্লীল বিষয় ও পাতাগুলোর উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ। আর না প্রকাশ্যে পানাহার এবং হোটেল-রেস্তোরা, কফিশপ, রেস্ট হাউস ইত্যাদির বিলাসিতা ও অশ্লীলতার উপর কোনো বিধিনিষেধ। না রাষ্ট্রীয়ভাবে, না সামাজিকভাবে। আর না ঐসকল লোকদের মধ্যে এতটুকু চক্ষুলজ্জা যে, যে মাসে বড় বড় শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় সে মাসে তো অন্তত নিজেদেরকে এবং নিজেদের অধীনস্থদেরকে অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখা দায়িত্ব। চিন্তার বিষয় এই যে, এইসব লোক কিন্তু ঈদগাহে উপস্থিত থাকে। ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া যদি তওবার নিয়তে হয়, নিজেকে অপরাধী মনে করে হয় এবং ঈদের নেয়ামতের কদরদানীর জন্য হয় তবে তো খুবই উত্তম, কিন্তু বাহ্যিক অবস্থাদৃষ্টে এমন মনে হয় না; বরং শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই উদ্দেশ্য বলে মনে হয়। বলাবাহুল্য যে, এই মানসিকতাও লা’নত ও অভিশাপের কারণ এবং ঈদকে ‘ওয়ীদে’ অভিশাপে রূপান্তরিত করার মাধ্যম। ৩. ঈদ ইসলামের শিআর (নিদর্শন)। ঈদের দিনগুলো অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।

ইসলামে ‘শিআর’-এর প্রসঙ্গটি অত্যন্ত নাযুক ও সংবেদনশীল। বিশেষ বরকতপূর্ণ সময়গুলোর মর্যাদা বিনষ্ট করা অত্যন্ত ভয়াবহ। সামান্য চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারি যে, ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমাহলগুলোতে এবং বিভিন্ন টিভি-চ্যানেলে যে বিশেষ উদ্যোগ-আয়োজন গ্রহণ করা হয়ে থাকে- এটা কি এই ইসলামী নিদর্শনের প্রকাশ্য ও খোলাখুলি অমর্যাদা করা নয়? এসব বিষয়ের ব্যবস্থাপনা এবং প্রচার-প্রচারণায় যারা যেকোনোভাবে অংশগ্রহণ করে এবং যারা এসব অশ্লীল দৃশ্য অবলোকনের মাধ্যমে ঈদ-উৎসব উদযাপন করে তারা সবাই কি এই ‘শিআরে ইসলাম’-ইসলামের নিদর্শনের অমর্যাদার সঙ্গে জড়িত নয়? ভেবে দেখুন, অবশেষে এটা কি ঈদ থাকল না অভিশাপে রূপান্তরিত হল? ৪. ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের অমর্যাদার আরেকটি বিষয় মাবোনদের মধ্যে দেখা যায়।

শহরে ও গ্রামে ঈদের দিনগুলোতে নারীরা বেপর্দা বের হয়। সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে রাস্তা-ঘাটে ঘুরতে থাকে। এ বাড়ি থেকে সে বাড়ি, এ জায়গা থেকে সে জায়গা । পর্দাহীন যদি হতেই হয় তবুও অন্তত ইসলামী ঈদের দিনগুলোতে সংযত থাকা উচিত। নিজের উপর এতখানি অত্যাচার তো করা উচিত নয় যে, ইসলামী নিদর্শনগুলোরও অমর্যাদা করতে আরম্ভ করলেন! এই ঈদ তো পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদের প্রদান করেনি, এটা প্রদান করেছে ইসলাম। অতএব ইসলামের বিধান মোতাবেক তা উদযাপন করাই মুসলমানের কর্তব্য। পাশ্চাত্যের ফ্যাশন, পাশ্চাত্যের নগ্নতা ও অশ্লীলতাকে এর সঙ্গে সংযু্ক্ত করা কি খাঁটি মুসলমানের কাজ হতে পারে? ৫. ‘ঈদকে‘ অভিশাপ বানানোর আরেকটি রীতি আজকাল মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে। যেহেতু ধরে নেওয়া হয়েছে যে, ইসলামী ঈদ নিছক একটি উৎসব কিংবা এতে উৎসবের দিকটিই প্রধান তাই তা উদযাপনের জন্য সাজসজ্জার সীমাতিরিক্ত আয়োজনে ডুবে যেতে দেখা যায়। রমযানের শেষ দশক এ কাজেই বরবাদ হয়ে যায়। এই সময় দিন-রাত মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে প্রচন্ড ভিড় থাকে। পুরুষের চেয়ে নারীদের ভীড়ই বেশি, আর অধিকাংশই বেপর্দা।

মজার বিষয় এই যে, এই কেনাকাটায় ওইসব লোকেরাই সবচেয়ে অগ্রগামী, যাদের না রয়েছে রোযা-তারাবীর চিন্তা, না রমযানের মর্যাদা রক্ষার অনুভূতি। তাদের তো প্রকৃতপক্ষে ঈদগাহেই উপস্থিত হওয়ার অধিকার থাকে না অথচ তারাই ঈদ-শপিংয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। হাদীস শরীফে কুরবানী ঈদ সম্পর্কে এসেছে যে- ‘যার কুরবানী করার ইরাদা নেই সে যেন ঈদগাহে না আসে।’ কুরবানী, যা ওয়াজিব কিংবা (কোনো কোনো মাযহাব মতে) সুন্নতে মুয়াক্কাদা সেটা পরিত্যাগ করার কারণেই যখন এই ধমক দেওয়া হল যে, সে যেন ঈদগাহে না আসে তাহলে রোযার মতো ফরয বিধান যারা পরিত্যাগ করে তাদের কীভাবে ঈদগাহে হাজির হওয়ার অধিকার থাকে? হাঁ, কেউ যদি নিজেকে অপরাধী মনে করে অনুতপ্ত হয়ে ঈদগাহে উপস্থিত হয় তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। একটি শ্রেণী-মাশাআল্লাহ- রোযা রাখেন কিন্তু রমযানের শেষ দশকে তারাবী ছেড়ে তারাও ঈদ শপিংয়ের চক্করে ফেঁসে যান। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, রমযানে দিবসের করণীয় হল রোযা আর রাতের করণীয় তারাবী ও তাহাজ্জুদ। তারাবী হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

এ থেকে বঞ্চিত থাকার অর্থ হল হাফেযের মুখ থেকে কুরআন মজীদ শ্রবণ করা থেকে বঞ্চিত থাকা। এটা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ততা। কিছু মানুষ এমনও আছেন যারা মাশাআল্লাহ রোযার সঙ্গে তারাবীরও পাবন্দী করেন এবং তারাবীতে খতমও করে থাকেন, কিন্তু তারা পনেরো বা বিশ রমযানের মধ্যেই খতম শেষ করে দেন এবং শেষ দশকে শুধু সূরা তারাবী পড়ে থাকেন, জামাতের সঙ্গে কিংবা একা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কুরআন খতম থেকে আগে ফারেগ হওয়ার উদ্দেশ্য থাকে বাইরে যাওয়া আসায় সুবিধা সৃষ্টি করা। অথচ গোটা রমযানের মধ্যে শেষ দশকের ফযীলতই সবচেয়ে বেশি। এজন্যই এতে ইতিকাফ এবং লায়লাতুল কদর তালাশ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সালাফে সালেহীন রমযানের প্রথম বিশ দিনের তুলনায় শেষ দশকে নামায, তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ইবাদতে অনেক বেশি মেহনত করতেন। এজন্য শেষ দশকের রাতগুলো খুব বেশি আমলে কাটানো আবশ্যক।

এই বরকতময় রাতগুলো কোনোভাবেই মার্কেটিংয়ের পিছনে নষ্ট করা উচিত নয়। এখানে একটা বড় ভুল ধারণা এই যে, অধিকাংশ মানুষ ঈদের দিনের জন্য নতুন পোশাক পরিধান করা এবং অন্যদের পরিধান করানো বা হাদিয়া দেওয়াকে ঈদের অপরিহার্য অংশ মনে করে অথচ এই কথাটা একদম গোড়া থেকেই সঠিক নয় যে, ঈদের জন্য নতুন কাপড় মাসনূন; বরং দলীল দ্বারা শুধু এটুকু প্রমাণ হয় যে, নিজের কাছে বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে পবিত্র ও উত্তম পোষাক পরিধান করবে। এক প্রস্থ উত্তম কাপড় বানিয়ে কিংবা ক্রয় করে তা জুমআ ও ঈদে পরিধান করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি উত্তম পোশাক ছিল যা তিনি জুমআ, ঈদে কিংবা বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত করার সময় পরিধান করতেন। -আসসুনানুল কুবরা বায়হাকী ৩/২৮০-২৮১; যাদুল মাআদ ১/৪২৫ মোটকথা, পরিষ্কার ধোয়া কাপড় যা বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে যে কাপড়টি সবচেয়ে পবিত্র তা ঈদের দিন পরিধান করা কাম্য। যদি ঘটনাক্রমে তা নতুনও হয় তাহলেও অসুবিধা নেই, কিন্তু প্রত্যেক ঈদের জন্য নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করাকে আবশ্যক মনে করা একদম ঠিক নয় এবং এর ওপর শরীয়তের কোনো দলীলও নেই। কেউ বলতে পারেন যে, ইসলামে জায়েয সাজসজ্জাকে বৈধ রাখা হয়েছে এবং ঈদের সময় তা পছন্দনীয়ও বটে? অবশ্যই পছন্দনীয় তবে একে সীমার মধ্যে রাখা হলে। মুবাহ সাজসজ্জার মধ্যেও বাড়াবাড়ি করা নিষেধ। এরপর এখানে আলোচনা শুধু সাজসজ্জা সম্পর্কেই নয়; বরং এতে সীমালঙ্ঘন করে রমযানের সবচেয়ে বরকতময় সময়গুলোকে বিনষ্ট করা সম্পর্কেও। প্রশ্ন এই যে, শরীয়তে এই প্রান্তিকতাও কি কাম্য ও পছন্দনীয়, নাউযুবিল্লাহ?! এরপর মুবাহ ও বৈধ সাজসজ্জাকে বাহানা বানিয়ে যারা অবৈধ সাজসজ্জার পেছনে পড়ে যায় তাদের কথা আর কি বলব!

নিউজটি শেয়ারের অনুরোধ রইলো

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২১ 'বিজয়ের বাংলা'
Developed by  Bijoyerbangla .Com
Translate to English »