1. atikurrahman0.ar@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  2. Mijankhan298@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  3. rabbimollik2002@gmail.com : Bijoyerbangla News : Bijoyerbangla News
  4. msthoney406@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
  5. abur9060@gmail.com : বিজয়ের বাংলা : বিজয়ের বাংলা
এখনো অনেক লাশ শনাক্ত হয়নি, মেলেনি সহায়তা - ২৪ ঘন্টাই খবর

এখনো অনেক লাশ শনাক্ত হয়নি, মেলেনি সহায়তা

  • আপডেট করা হয়েছে: শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৭৬ বার পঠিত

বিভীষিকাময় সুগন্ধা ট্রাজেডির এক বছর পার হতে চলছে আজ। গতবছর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা এম ভি অভিযান-১০ লঞ্চ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এসে রাত সাড়ে তিনটায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ‍্যে ৪৯ জন

আগুনে পুড়ে মারা যায়। ৭২ জন চিকিৎসার জন‍্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের একটি বছর পার হলেও এখনো মৃতদেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাদের খোঁজ পাওয়া গেলেও মেলেনি সরকারি সহয়তা। বরগুনা জেলা প্রশাসন বলছেন অল্প সময়ের মধ‍্যে দেয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ‍্যে সরকারি সহয়তা।

গত বছর ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত শুরু হয়। লঞ্চটি তখন নলছিটি উপজেলা ক্রস করছিলো। আগুন লাগার পরে লঞ্চটি নলছিটি ঘাটে ষ্টপেজ করেনি। ঝালকাঠি ঘাটে ষ্টপেজ

করেনি। লঞ্চটি প্রায় ১ঘণ্টা ধরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চলতে থাকে। তখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে ছিল লঞ্চটিতে। পরে লঞ্চটি ঝালকাঠির দিয়াকুল করে গিয়ে নদীর তীরে নোঙর করে। এসময় ভাগ্যক্রমে অনেক যাত্রী লঞ্চ

থেকে তীরে নামতে পেরেছিল। এসময় সাতরে অনেকে তীরে উঠতে পারলেও অনেক যাত্রীর সলিল সমাধী হয় সুগন্ধা নদীতে। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের পুরো টিম ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেদিনের লঞ্চ দুর্ঘটনার ট্রাজিডিতে ৪৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে মারা যায়। ৭২ জন যাত্রীকে বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অনেকের অবস্থা আশংকাজনক হলে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় আরো তিন

জনের মৃত্যু ঘটে। অনেকের লাশ বিষখালী নদীর চড়ে, জালেও আটকা পড়ে। আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে থেকে তখন ২৬ জনের পরিচয় সনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায়

২৩ মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। ওই সব মরদেহের নমুনা সংরক্ষণ করে বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে অজ্ঞাত পরিচয় ২১ জনকে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় নৌ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র যুগ্ম সচিব তোফায়েল আহমেদকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন।

আগুনে যাত্রী পুরে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর নৌ আদালতে ৮ জনকে আসামী করে মামলা করে। ঐদিনই আদালতের বিচারক ও দায়রা জজ জয়নব বেগম গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। ২৭ ডিসেম্বর দুপুর অভিযান লঞ্চ-১০ মালিক

হামজালাল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় লঞ্চের মালিক সহ ২৫ জনকে অজ্ঞতা রেখে বরগুনা মূখ‍্য বিচারিক আদালতে এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একটি মামলা দায়ের করেন।

বরগুনা পোটকাখালী গণ কবরে দাফন করা অজ্ঞাতদের শনাক্ত করতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঢাকা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি টিম ২৩ মরদেহের পরিচয় সনাক্তের অনুকূলে ৪৮ স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করেন। যার মধ্যে ১৪ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়।

এখনো অজ্ঞাত পরিচয়ে রয়েছে ৯ মরদেহ। নিখোঁজদের স্বজনরা বলছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ যেনো পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের ব্যাবস্থা করে।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মা ও ছোট বোনকে খুঁজে পেতে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘মা ও বোনকে খুঁজে পেতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সদস্যদের কাছে নমুনা দিয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পার হলেও এখনো মা-বোনের সন্ধান দিতে পারেনি তারা। তাই মা ও বোনের অন্তত হাড় অথবা কবরের মাটি টুকু হলেও আমরা চাই’।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের উপার্জন ক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে ঐসব পরিবারগুলো। ঘটনার এক বছর পর হলেও এখনো পায়নি কোন ধরনের সরকারি সহায়তা।

অভিযান -১০ লঞ্চের অগ্নিকাণ্ডে পোটকাখালী এলাকার নিহত মোঃ মহিবের মা মোসাঃ তাহমিনা বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা গেছে। প্রশাসন এক বছর পর ছেলের কবরের ঠিকানা দিয়েছে। পরিবারের ভরণপোষণ বহন করার মত আমার পরিবারে আর কেউ নেই। খেয়ে না খেয়ে কোনমতে দিন পার করছি। সরকার বা অন্য কোন জায়গা থেকে কোন প্রকার সহায়তা পাইনি আমরা’।

গত ২৯ মার্চ বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বরগুনার সনাক্ত হওয়া ১৮টি লাশের পরিবারের কাছে নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ নৌ-নিট্রা থেকে ২৮ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি।

নিহতের পরিবারের সহয়তা না পাওয়ার অভিযোগে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য তালিকা করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। খুব অল্প সময়ে ওসব পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন
© All rights reserved 2022
Site Developed By Bijoyerbangla.com